প্রথমদিন ইমাদ ফাওজি’র সাথে লাঞ্চের কম্পিটিশন করে সিদ্ধান্ত নিলাম, এই ভুল আর করা যাবে না! এত খেলে ঘুরাঘুরি করা যাবে না। সে তো পরের কথা; কিন্তু আজকে তো আর নড়ন-চড়ন করার মত অবস্থা নেই! ট্রেইনারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হোটেলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলাম।
এর মধ্যে আরেকটা কাজ করতে হবে; ট্যুরিস্ট প্লেসগুলো সম্বন্ধে ধারণা নিয়েছি কিন্তু কোনটা কোথায়, এটা যদি লোকেট করা যায়, তাহলে অল্প সময়ে বেশী জায়গা কাভার করা যাবে। চেনা পথে আবার হাঁটা শুরু করলাম। এতে খাবার হজমে কিছুটা সহায় হবে এবং নামাজ পড়তে সুবিধা হবে।
হোটেল ফেভরিতে ঢুকে প্রথমে নামাজ পড়ে নিলাম, এরপর রাইটিং প্যাডের একটা পাতা নিয়ে গুগল ম্যাপ দেখে দেখে মোটামুটি কারেক্ট একটা ট্যুরিস্ট প্লেসের লোকেশন ড্রয়িং করলাম। সাথে কোনটা কখন খোলে আর কখন বন্ধ হয়, তাও আইডেন্টিফাই করে নিলাম। আগামী কয়দিন এটা মানিব্যাগে নিয়ে ঘুরতে হবে; যেদিন যেখানে যাব, সেদিন সেখানকার সব প্লেস কাভার করার চেষ্টা করব।
মোটামুটি যে লিস্টটা ফাইনাল করলাম, তাতে দেখা যাচ্ছে, সবগুলি স্পটই ৫ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে; অর্থাৎ, বেশী কষ্ট হবে না, সময়ও বেশী লাগবে না। আপনারা যারা ভবিষ্যতে যাবেন, তাদের জন্য এটি লিখে দেয়ার চেষ্টা করছি এবং ড্রয়িং ছবিটিও দিয়ে দিলাম; কিছু ভুল থাকা অসম্ভব নয়, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
যেদিন আয়া সোফিয়া দেখতে যাবেন, সেদিন সকাল ৯ঃ০০টার মধ্যে পৌঁছে যাবার চেষ্টা করবেন এবং কাভার করার চেষ্টা করবেন- আয়া সোফিয়া, টপকাপি প্যালেস, ব্যাসিলিকা সিস্টার্ন, ব্লু-মস্ক, আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়াম, মিউজিয়াম অফ টার্কিশ এন্ড ইসলামিক আর্টস, লিটল আয়া সোফিয়া এবং সম্ভব হলে রাতে বসফরাস ক্রুজ!
পরেরদিন প্রথমেই যেতে চেষ্টা করুন সুলেমানিয়া মস্ক, তারপর গ্র্যান্ড বাজার, স্পাইস বাজার, এমিনোনু, রুস্তম-পাশা মসজিদ, মোল্লা জেয়ারেক মসজিদ, ফাতিহ মসজিদ এবং বিকেলের দিকে অবশ্যই জাহাজে করে উস্কুদার হয়ে চামলিজা মসজিদ তথা এরদোয়ান মসজিদ দেখে আসবেন।
এর পরদিন আপনি যেতে পারেন ডলমাবাখে প্রাসাদ, প্যারা মিউজিয়াম (আমি ঢুকিনি, এটা কার্ডের ১৩ টা মিউজিয়ামের মধ্যে নেই; আলাদা টিকেট কাটতে হয়। তবে বুঝেছি যে, এখানে ক্রিশ্চিয়ানিটি রিলেটেড জিনিসপত্র বেশী আছে), মেইডেন’স টাওয়ার, মিউজিয়াম অফ মডার্ণ আর্টস, ওরটাকয় মসজিদ, বসফরাস ব্রীজ, বিকেলের দিকে গালাতা টাওয়ার, গালাতা ব্রীজ হয়ে তাকসিম স্কয়ার ও ইশতিকলাল স্ট্রীট!
এই তিনদিনে আপনার মূল ট্যুরিস্ট স্পটগুলো দেখা হয়ে যাবে। এরপর আপনি প্ল্যানে থাকলে কাপাডোকিয়া, বুরসা বা ইজমির যেতে পারেন। তিনদিনের যে প্যাকেজ প্লেস দিলাম, এটি তৈরি করতে আমার কষ্ট করতে হয়েছে কিন্তু এটি বেশ কাজের।
লিস্ট তৈরি করা শেষ হলে গালাতা টাওয়ারে যাবার উদ্দেশ্যে বিকেল চারটার দিকে বেরিয়ে পড়লাম; উদ্দেশ্য মেইনরোডে এসে ট্যাক্সি ধরা, তখনো এই দেশের ট্রান্সপোর্ট কন্ডিশন সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই।







